Home / ইউটিউব মার্কেটিং / ইউটিউব এসইওঃ ৬টি গুরুত্বপূর্ণ মেথড ভিডিও টপ র‍্যাংকিং এর জন্য

ইউটিউব এসইওঃ ৬টি গুরুত্বপূর্ণ মেথড ভিডিও টপ র‍্যাংকিং এর জন্য

আসসালামু আলাইকুম, আমি মোঃ আবু তাহের একজন ডিজিটাল মার্কেটার এবং এস ই ও এক্সপার্ট ,সবাইকে স্বাগতম জানাচ্ছি ইউটিউব এস ই ও আর্টিকেলে। আজকের এই পোস্ট সম্পূর্ন পড়লে আপনে সহজেই আপনার ভিডিও এস ই ও করে র‍্যাংক করে নিয়মিত  ভিউ নিয়ে আসতে পারবেন। কারন আমি এই একই মেথড ব্যবহার করে দীর্ঘ দুই বছর বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস এ কাজ করে উপার্জন করতেছি।

ইউটিউব ভিডিও এস ই ও গাইড

আজকে আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরবো ৬ টি গুরুত্বপূর্ণ এস ই ও সিক্রেট বিষয় যেগুলো আপনার ভিডিও কে টপে র‍্যাংক করতে সাহায্য করবে।

  1. Competitor Research
  2. Long Content Making
  3. Keyword Research 
  4. Click Through Rate(CTR)
  5. Video Optimization
  6. Backlink

YouTube ভিডিও এর এস ই ও টিকমতো করতে পারলে আপনি আপনার যেকোন নিশের মধ্যে ট্রাফিক নিয়ে আসতে পারবেন, তাই ইউটিউব মার্কেটিং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ভিডিও এর অন পেইজ এস ও টিকমত করা।

এমনি ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ র‍্যাংকিং বিষয় নিয়ে আজকের পোস্ট।

সার্চ ইঞ্জিনে আপনার ভিডিও কে প্রথম পেইজে নিয়ে আসতে এই বিষয় গুলো আপনাকে সাহায্য করবে।

১. Competitor Research:

competitor Research রিসার্চ করা ইউটিউব এস ই ও এর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমি মনে করি কোন ভিডিও র‍্যাংক করাতে হলে প্রথমেই আপনাকে যে বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিতে হবে সেটি হচ্ছে আপনার প্রতিযোগিদের রিসার্চ করা।

আমরা সাধারণত যে কাজ করি ভিডিও ইউটিউব এ আপলোড করে তার পরে কম্পিটিটর রিসার্চ করি, 
এটি আপনারা সহ মোটামুটি সবাই এই ভুল করে থাকি!!

কিন্তু একটু চিন্তা করে দেখুন, যদি ভিডিও তৈরি করার আগে আপনি আপনার কম্পিটিটর নিয়ে রিসার্চ করতে পারেন, তাহলে খুব সহজেই আপনার কম্পিটিটর দের রেখে আপনার ভিডিও টপে নিয়ে আসতে পারবেন।

উদাহরণ দিয়ে সুন্দর করে বুঝিয়ে দিচ্ছিঃ

মনে করেন আপনি YouTube SEO নিয়ে একটি টিউটোরিয়াল তৈরি করতে চাচ্ছেন!

এখন আপনি ভিডিও তৈরি করে যদি কম্পিটিটর রিসার্চ করেন, তাহলে সাধারণত কি করবেন?

ভিডিও থেকে টাইটেল, ট্যাগ দেখবেন
ভিডিও এর ডিউরেশন দেখবেন অর্থাৎ ভিডিও কতটুকু লম্ভা সেটি দেখবেন।
এবং ভিডিও এর থাম্বনেইল দেখবেন।

ওকে এখন আসি যদি আপনি ভিডিও তৈরি করার আগে এই ইনফরমেশন গুলো দেখেন তাহলে কি লাভ হবে!!

আপনি আপনার কম্পিটিটর দের দেখে তাদের চেয়ে লম্ভা ভিডিও তৈরি করতে চেষ্টা করবেন। যদি ভিডিও তৈরি করার পরে এই কাজটি করেন তাহলে এই সুযোগ থাকছেনা অর্থাৎ কম্পিটিটর দের চেয়ে লম্বা অথবা কাছাকাছি ডিউরেশন এর ভিডিও তৈরি করতে পারবেন না।

শুধু তাই নয়, আপনি চাইলে আপনার কম্পিটিটর যারা আছে তাদের দেখলেন এবং তাদের মধ্য থেকে যদি কেউ 4K. ভিডিও তৈরি না করে সেক্ষেত্রে আপনি যদি তৈরি করেন তখন আপনার র‍্যাংক করার সম্ভাবনা থাকবে । ইউটিউব কোয়ালিটি ভিডিও কে বেশি প্রাধান্য দেয়।

তাহলে বুঝতেই পারছেন ভিডিও তৈরি এর আগে যদি কম্পিটিটর রিসার্চ করেন তাহলে আপনি অনেক বিষয়ে আপনার কম্পিটিটর দের থেকে এগিয়ে থাকবেন।

নাম্ভার দুইঃMake long Content:

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইউটিউব এস ই ও ফ্যাক্টর হলো লম্বা কন্টেন্ট তৈরি করা। লম্বা কন্টেন্ট আপনার র‍্যাংকিং এ সাহায্য করবে। 
এখন আসি আসল কথায়, আমি লম্বা বলার সাথে সাথে হয়তো অনেকেই ভাবতেছেন তাহলে এখন থেকে যে করেই হউক লম্বা ভিডিও আপলোড করবো।
কিন্ত না শুধু লম্বা ভিডিও আপলোড করেও কোন লাভ হবে না যদি ভিডিও তে কোয়ালিটি না থাকে। অর্থাৎ ভিউয়ারস আপনার ভিডিও থেকে যদি ইনফরমেশন নায় পায় তাহলে বেশিক্ষন থাকবেনা, আর ভিডিও থেকে যদি কোন ভিউয়ারস আসলো এবং চলে গেলো তাহলে আপনি র‍্যাংকিং হারাবেন।

নাম্বার তিনঃKeyword Research :

Keyword Research

ভিডিও র‍্যাংক করানোর জন্য কিওয়ার্ড রিসার্চ খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আপনি আপনার ভিডিও জন্য যদি সটিক কিওয়ার্ড পছন্দ করতে না পারেন তাহলে সার্চ রেজাল্টে আপনার ভিডিও দেখাবে না, আর সার্চ রেজাল্টে না দেখালে ভিউ বা সাবস্কারাইবার ও পাবেন। এখানে কিওয়ার্ড রিসার্চ বলতে আমি বুঝাতে চাচ্ছি আপনার ভিডিও এর জন্য সটিক টাইটেল, ডেসক্রিপশন এবং ট্যাগ পছন্দ করা।

আপনারা কিওয়ার্ড রিসার্চ অনেকগুলো মাধ্যমে করতে পারেন তার মধ্যে দুটি মাধ্যম তুলে ধরতেছি।

প্রথমতঃ বিভিন্ন টুলসের মাধ্যমে যেমন
Ubbersugggest:
Keyword.io:
Keyword planner : 
VidIQ:

এগুলোর মাধ্যমে আপনি কাংখিত কিওয়ার্ড খুজে পেতে পারেন। কিন্তু ইউটিউবে র‍্যাংকিং এর জন্য এই কিওয়ার্ড টুলসগুলো আপনাদের খুব বেশি কাজে আসবেনা।

আমরা সবাই যে ভুল করি কিওয়ার্ড টুলস থেকে কপি করে ভিডিও ট্যাগ হিসেবে সিলেক্ট করি৷ কিন্তু আসলে আমরা রিসার্চ করে দেখিনা যে এই কিওয়ার্ড ইউটিউব সার্চ হচ্ছে কিনা বা এই কিওয়ার্ড টি র‍্যাংক হয়েছে কিনা।

এর জন্য আমি সাজেস্ট করবো আপনাদেরকে অর্গানিক মাধ্যমে আপনার ভিডিও এর জন্য কিওয়ার্ড খুজে বাহির করুন।

তাহলে এখন কথা হলো কিওয়ার্ড টুলস থেকে আপনারা কি কি সাহায্য নিতে পারেন।
কিওয়ার্ড টুলস থেকে আপনারা কিওয়ার্ড সার্চ ভলিউম এবং ঐ কিওয়ার্ড এর সিপিসি কত এগুলো খুব সহজেই জানতে পারবেন।

দ্বিতীয়তঃ 
ইউটিউব এবং গুগলের মাধ্যমেঃ

আপনি যেহেতু ভিডিও ইউটিউব এ র‍্যাংক করাতে চাচ্ছেন, তাই আপনি যদি সরাসরি ইউটিউব থেকে কিওয়ার্ড খুজে বাহির করেন তাহলে আপনি খুব সহজেই ইউটিউব এ র‍্যাংক করতে পারবেন।

এবং সেই একই কিওয়ার্ড রিসার্চ মেথড আপনি গুগলে ব্যাবহার করে গুগল থেকেও কিওয়ার্ড রিসার্চ করে আপনি আপনার ভিডিও কে গুগলে র‍্যাংক করাতে পারেন।

কীভাবে আপনি আপনার ভিডিও এর জন্য টাইটেল,ট্যাগ এবং ডেস্ক্রিপশন লিখবেন এ নিয়ে পরবর্তী পোস্টে আলোচনা করবো চোখ রাখুন পরের পোস্টে।

নাম্বার চারঃ Click Through Rate(CTR)

আচ্ছা এবার চিন্তা করুন তো,আপনি যে কিওয়ার্ড এ ভিডিও র‍্যাংক করতে চাচ্ছেন ঐ কিওয়ার্ড এ তো ইতিমধ্যে অনেকেই র‍্যাংক করে বসে আছে তাহলে আপনাকে কেন? ইউটিউব টপে র‍্যাংক করে দিবে?

এর জন্য অনেক গুলো বিষয় কাজ করে, তার মধ্যে অন্যতম যে বিষয় সেটি হলো CTR অর্থাৎ যখন আপনার টার্গেটেড কিওয়ার্ড লিখে ইউটিউব এ কেউ সার্চ করতেছে তখন আপনার ভিডিও তে যদি ভিউয়ার্স আসে সে আপনার ভিডিও কতক্ষন দেখলো।

একটু সহজ করে বলিঃ মনে করেন আপনার ভিডিও তে একজন ভিউয়ার আসলো, আপনার ভিডিও এর টাইটেল হচ্ছে ইউটিউব এস ই ও। এখন আপনি ভিতরে অন্য কিছু নিয়ে আলোচনা করতেছেন, বা সটিক তথ্য ভিউয়ার্স এর সামনে তুলে ধরতে পারেন নাই যার জন্য ভিউয়ার্স চলে যাচ্ছে। এতে কি হচ্ছে আপনার টুটাল ভিউয়ার্স ডিউরেশন কমে যাচ্ছে। তাহলে ইউটিউব ভিডিও কে র‍্যাংক থেকে সরিয়ে দিবে।

আর যদি ভিউয়ার্স আপনার কিওয়ার্ড এর উপর সার্চ করে আপনার সম্পুর্ন ভিডিও দেখে তাহলে আপনার এভারেজ ভিউ ডিউরেশন টিক থাকবে। এতে করে ইউটিউব বুঝতে সক্ষম হবে যে, আপনি আপনার ভিডিও তে সটিক তথ্য দিতে পারছেন যার জন্য ভিউয়ার্স আপনার ভিডিও বেশি সময় নিয়ে দেখতেছে, তাহলে আপনার ভিডিও কে ইউটিউব র‍্যাংক করিয়ে দিবে।

এখন আসেন কিভাবে CTR Rate ধরে রাখবেনঃ

প্রথমেই আপনাকে যে বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিতে হবে সেটি হলো ভিডিও এর থাম্বনেইল। 
থাম্বনেইল যত পারা যায় আকর্ষণীয় করে তৈরি করতে হবে , এমন কিছু লিখতে হবে আপনার ভিডিও এর ভিতরে কি আছে সম্পুর্ণ যেনো থাম্বনেইল এ ফুটে উটে, অর্থাৎ এমনভাবে থাম্বনেইল তৈরি করতে হবে যেনো ভিউয়ার ক্লিক করতে বাধ্য হয়, ভিডিও তে ক্লিক করাতে আপনার টাইটেল আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে, তাই কম্পিটিটর দের দেখে এট্রাক্টিভ টাইটেল তৈরি করতে চেষ্টা করুন। 
টাইটেল তৈরি করে আপনি নিজে তুলনা করেন অন্যান্য টাইটেল এর সাথে। আপনি নিজে একজন ভিউয়ার হিসেবে দেখুন এই টাইটেল এ আপনি ক্লিক করবেন কি না?

নাম্বার পাঁচ ঃ VIDEO OPTIMIZATION:

YOUTUBE VIDEO SEO

ভিডিও অপ্টিমাইজেশন বা অন পেইজ এস ই ও। আপনি যখন ভিডিও ইউটিউব এ আপলোড করবেন, তখন যে টাইটেল,ট্যাগ এবং ডেস্ক্রিপশন লিখবেন এটাই হচ্ছে আপনার ভিডিও এর অন পেইজ এস ই ও।
ভিডিও অপ্টিমাইজেশন এর জন্য আপনি কি কি করবেন?

টাইটেল পছন্দ করাঃ আপনার নিজের নিশের উপরে সুন্দর একটি টাইটেল তৈরি করেন।

ভিডিও এর বর্ননা লিখুনঃ ভিডিও তে আপনি কি কি নিয়ে আলোচনা করেছেন সেগুলো বর্ননাতে লিখুন।

ট্যাগ পছন্দ করুনঃ আপনার কিওয়ার্ড এর উপর যে ট্যাগ গুলো র‍্যাংক হচ্ছে বা সার্চ হচ্ছে সেগুলো ব্যবহার করুন।

কিভাবে আপনি আপনার ভিডিও তে টাইটেল,ট্যাগ এবং ডেস্ক্রিপশন লিখবেন সেটা নিয়ে পরবর্তী পোস্টে আলোচনা করা হবে, তাই এখানে আর বিস্তারিত লিখলাম না।

নাম্বার ছয়ঃ Backlink

আপনি ভিডিও আপলোড করলেন এবং অন পেইজ এস ই ও করলেন, এখন কি কাজ শেষ? না কাজ শেষ না।

এখন হলো আসল কাজ, ভিডিও র‍্যাংকিং এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো লিংক বিল্ডিং করা। 
লিংকবিল্ডিং টিকমতো করতে পারলে ইউটিউব আপনার ভিডিও র‍্যাংক করে দিবে।

বিভিন্ন মাধ্যমে আপনি লিংক বিল্ডিং করতে পারেন । 
যার ভিডিও যত বেশি কোয়ালিটি ব্যাকলিং থাকবে তার ভিডিও তত দ্রুত এবং উপরে র‍্যাংক করবে।

ব্যাকলিংক কি? 
ব্যাকলিংক মুলত আপনার ভিডিও এর লিংক অন্য মাধ্যমে শেয়ার করে আপনার ভিডিও তে ট্রাফিক নিয়ে আশা কে বুঝায়।

যেমনঃ আপনি আপনার নিশ রিলেটেড ভিডিও গুলোতে টিউমেন্ট করতে পারেন।
মনে রাখবেন টিউমেন্ট করতে গিয়ে স্পামিং করবেন না।

কিভাবে করবেন?
মনে করেন আপনি ইউটিউব এস ই ও নিয়ে ভিডিও তৈরি করলেন এখন এই কিওয়ার্ড এর উপরে আপনার যারা কম্পিটিটর আছে যাদের ভিডিও টপে র‍্যাংক করে আছে তাদের ভিডিও তে আপনি ইউটিউব এস ই ও সম্পর্কে সুন্দর করে গুছিয়ে লিখতে পারেন। 
এবং কমেন্টের রিপ্লাই দিতে পারেন, এই কাজটি আপনি আপনার ব্রান্ড চ্যানেল দিয়ে করবেন। যদি আপনি সুন্দর করে গুছিয়ে উত্তর দিতে পারেন তাহলে ভিউয়ার্স আপনার চ্যানেল গুরে আসবে।

এটা শুধু একটি বিষয় বললাম আরও অসাধারণ কিছু মাধ্যম আছে ব্যাকলিংক করার জন্য। সেগুলো সম্পর্কে যদি বিস্তারিত জানতে চান তাহলে আপনি আমার পোস্ট এর কমেন্ট সেকশনে কমেন্ট করুন
#Backlink তাহলেই আমি পরবর্তীতে ব্যাকলিংক নিয়ে বিস্তারিত লিখার চেষ্টা করবো।

সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি পড়ার জন্য।

ডিজিটাল মার্কেটিং এ যারা ক্যারিয়ার শুরু করতে চাচ্ছেন তারা আমার অন্য একটি পোস্ট পড়ে আসতে পারেনঃ

কিভাবে শুরু করবেন ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যারিয়ার।

About Md Abu Taher

One comment

  1. Avatar

    Thank you so much for this advance tips..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *